মুর্শিদাবাদ জেলার সদর বহরমপুর থেকে ৯.৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ভাগীরথী নদীর তীরবর্তী রাঙামাটি গ্রাম এলাকায় অবস্থিত কর্ণসুবর্ণ। শশাঙ্কের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ। বঙ্গের প্রথম সার্বভৌম রাজা ছিলেন শশাঙ্ক। খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীর প্রথম ভাগে তিনি একাধিক ছোটো ছোটো রাজ্যে বিভক্ত সমগ্র বঙ্গ অঞ্চলটিকে একত্রিত করে একটি সুসংহত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
চিনা পরিব্রাজক
হিউয়েন সাং-এর বিবরণীতে কর্ণসুবর্ণ নগরী ও রক্তমৃত্তিকা বৌদ্ধ মহাবিহারের সমৃদ্ধির
বর্ণনা আছে। এই মহাবিহারে জ্ঞান ও ধর্মের প্রচারের জন্য অনেক খ্যাতিনামা পন্ডিত অাসতেন।
মহাবিহারের পাশেই ছিল সম্রাট অশোক স্থাপিত বৌদ্ধস্তূপ। স্বয়ং গৌতমবুদ্ধ কর্ণসুবর্নে
এসে সাতদিন বৌদ্ধধর্ম ও নীতি প্রচার করেছিলেন।
১৯৬২ সালে কলকাতা
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ রাঙামাটির রাজবাড়ি ডাঙ্গার উঁচু ঢিবি খনন কার্য
চালিয়ে পায়-
১) দুটি ব্রোঞ্জ
নির্মিত বৌদ্ধ মূর্তি। একটিতে বুদ্ধদেব পদ্মের উপর দাঁডিয়ে, অন্যটিতে ভূমি স্পর্শ মুদ্রায়
বসে আছেন।
২) ভগ্নাবশেষ খননে
বেরিয়ে আসে একটি পঞ্চায়তন মন্দিরের ইঁট ও পাথর দিয়ে গাঁথা জীর্ণ ভিত।
৩) বেশ কিছু পোড়ামাটিরর
সীলমোহর পাওয়া গেছে। যাতে বৌদ্ধ ধর্মচক্রের ছাপ, জোড়া হরিণ, গাছ ও পাখির ছবি ছিল।
৪) এছাড়া তাম্রচক্র
ও ভিতের মধ্যে পুঁতা একটি নরমুণ্ড পাওয়া গেছে।

No comments:
Post a Comment